প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

আগামী ৩ মাসে যেকোনো প্রান্তিকের চেয়ে বেশি কর আহরণ হবে

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ তিন মাসে আগের যেকোনো প্রান্তিকের তুলনায় বেশি রাজস্ব আহরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

রাজস্ব আহরণবিষয়ক টাস্কফোর্সের সঙ্গে গতকাল এক মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা বলেন তিনি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেয়েছি। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত আমাদের হাতে এসেছে, যা ৭ শতাংশেরও নিচে। এ পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিম এশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে; যা একপ্রকার ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। অনেকেই প্রশ্ন করেন, বর্তমান সরকার একের পর এক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিচ্ছে। এসবের অর্থায়ন কীভাবে হবে? এর সরল উত্তর কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি। সমালোচনা বা বিরোধিতা থাকতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির বিকল্প নেই।’

কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। দেশীয় ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে করের হার না বাড়িয়ে অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়বে, উৎপাদন বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে, আর কর্মসংস্থান বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই করহার না বাড়িয়েই কর আহরণ বাড়বে। এর মাধ্যমে কর-জিডিপি অনুপাত ধাপে ধাপে বাড়িয়ে প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

এনবিআরকে পৃথক্‌করণের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা করে সামনে এগোনো হবে। অতীতে কর ফাঁকি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে যে তদন্ত শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। এনবিআর চেয়ারম্যান নিয়মিতভাবে রাজস্ব আহরণের অগ্রগতি তুলে ধরবেন।’

রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় সমস্যা হলো পরিচালন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে, কিন্তু মূলধনি ব্যয় বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হচ্ছে না। অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় সুবিধা দেয়ার সংস্কৃতি আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রণোদনা না থাকায় দক্ষতা বাড়েনি। এছাড়া ব্যাপক হারে কর ফাঁকি ও জালিয়াতি ছিল। এ জায়গাগুলোতে আমরা পরিবর্তন আনছি।’

রাশেদ আল মাহমুদ আরো বলেন, ‘কর অবকাশ বাদ দিয়ে পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রণোদনা দেব আমরা। সার্বিকভাবে সরকার দুটি বড় ধরনের সংস্কারে জোর দিচ্ছে—কাঠামোগত সংস্কার (স্ট্রাকচারাল রিফর্ম) এবং নীতিগত সংস্কার (পলিসি রিফর্ম)।’ এ দুই ধরনের সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে রাজস্ব বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও